মঙ্গলবার,২২ শে অক্টোবর ২০২৪
গনেশ চক্রবর্তী, দুর্গাপুর : কেবলমাত্র হার্ট অপারেশন, হাঁটু পরিবর্তন বা জটিল বিভিন্ন রোগের চিকিৎসাই নয় এবার থেকে দুর্গাপুরের মিশন হাসপাতালে কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন করাও সম্ভব হবে। মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ শত প্রতিকূলতা কাটিয়ে জেলার প্রথম হাসপাতাল হিসেবে অঙ্গপ্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁতে সফল হলো।সেই সঙ্গে মিশন হাসপাতালে চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসু এবং মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মানবিক মুখ দেখলো সাঁকতোড়িরার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় তার ছেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায় এবং তার পরিবারের লোকজন। ১৫ ই সেপ্টেম্বর প্রথম সুযোগেই সফল কিডনি প্রতিস্থাপন করেন মিশন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।মিশন হাসপাতালে নেফ্রোলজি বিভাগের ডাঃ দীপক কুমার, ডাঃ রবিরঞ্জন সৌ মন্ডল সহ অন্যান্য বিশিষ্ট চিকিৎসকরা সাঁকতোড়িরার উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের সম্মতিতে ছেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেন।
জানা গেছে বছর ৩৫ এর পেশায় ইলেকট্রিক মিস্ত্রি পার্থ চট্টোপাধ্যায় দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত। চরম আর্থিক অনটনের মধ্যে ই ছেলের চিকিৎসা চালাচ্ছিলেন। এরমধ্যে ছেলের দুটি কিডনিই অকেজো হয়ে পড়ে।ছেলের ডায়ালেসিস চলছিল। এরমধ্যে বাবা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় ছেলেকে একটি কিডনি দান করার প্রস্তাব দেন চিকিৎসকদের। কিন্তু উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় পার্থ চট্টোপাধ্যায়দের স্বাস্থ্যসাথী কার্ডে কিভাবে কিডনি প্রতিস্থাপন করা সম্ভব! বিশাল অঙ্কের খরচ।ব্যয় সাপেক্ষ ব্যাপার। মাথায় হাত উজ্জ্বল বাবুদের।চিকিৎসক ডাঃ দীপক কুমার এবং ডাঃ রবি রঞ্জন সৌ মন্ডলের মাধ্যমে সেইকথা মিশন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসুর কানে পৌঁছায়। তৎক্ষণাৎ ডাঃ সত্যজিৎ বসু মফস্বলের বাসিন্দা রোগী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাবা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের অঙ্গপ্রতিস্থাপনের ইচ্ছাকে কুর্নিশ জানিয়ে কিডনি প্রতিস্থাপনের জোর তৎপরতা শুরু করে দেন।জেলার হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও নানা নিয়মের বেড়াজালে জেলা অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন একটা বড় চ্যালেঞ্জ জেলার বেসরকারি হাসপাতালের কাছে।
শেষমেশ সমস্ত বাধা টপকে কেবলমাত্র স্বাস্থ্য সাথী কার্ডেই রোগী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে বাবা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের কিডনি প্রতিস্থাপন করেন মিশন হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাঃ দীপক কুমার ডাঃ রবিরঞ্জন সৌ মন্ডল সহ অন্যান্য চিকিৎসকরা। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য মিশন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসু এবং মিশন হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের পাশে থাকতে একটা বড় সিদ্ধান্ত নেন। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়ের শরীর থেকে কিডনি নিয়ে ছেলে পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের শরীরে কিডনি প্রতিস্থাপন করতে স্বাস্থ্য সাথী কার্ডের বাইরেও যাবতীয় সমস্ত বিশাল অঙ্কের খরচ বহনের সিদ্ধান্ত নেয় মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এই রাজ্যে স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে এটা একটি নজিরবিহীন ঘটনা।১লা অক্টোবর রোগী পার্থ চট্টোপাধ্যায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন বলে জানান পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের বাবা উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়। তিনি ও সম্পূর্ণ সুস্থ।উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় বলেন মিশন হাসপাতালে চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসু এবং মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আন্তরিক প্রচেষ্টা এবং ডাঃ রবিরঞ্জন, ডাঃ দীপক কুমার পাশে না দাঁড়ালে আমার ছেলের কিডনি প্রতিস্থাপন কোনভাবেই আমি করতে পারতাম না। উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায় মিশন হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসু সহ মিশন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক, নার্স,স্বাস্থ্য কর্মী সকলকেই কৃতজ্ঞতা জানান।
মিশন হাসপাতালে চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসু বলেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক থাকলেও জেলার হাসপাতালে নিয়মের বেড়াজালে টপকে রোগীর শরীরে অঙ্গ প্রতিস্থাপন করা একটা বড় চ্যালেঞ্জ ।মিশন হাসপাতাল সেই চ্যালেঞ্জ টা নিতে পেরেছে।কম খরচে কিডনি প্রতিস্থাপন করে অঙ্গ প্রতিস্থাপনের মাইলফলক ছুঁতে সফল এখন মিশন হাসপাতাল। ডাঃ সত্যজিৎ বসু বলেন এবার থেকে দুর্গাপুরেই কম খরচে কিডনি সহ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপন করা সম্ভব। মিশন হাসপাতাল জটিল রোগের সুচিকিৎসার সফল হাসপাতাল পরিচয়ের সঙ্গে সঙ্গে এবার থেকে মিশন হাসপাতাল অঙ্গ প্রতিস্থাপন সেন্টার হিসেবে ও পরিচিত হোক। শুনুন সরাসরি দি মিশন হাসপাতালে চেয়ারম্যান ডাঃ সত্যজিৎ বসু বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে কি কি বললেন উপস্থিত সাংবাদিকদের